ঢাকা    সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
প্রভাতী টিভি

‘বসনিয়ার কসাইকে’ সামরিক মর্যাদা দিলো সার্বিয়া


প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

‘বসনিয়ার কসাইকে’ সামরিক মর্যাদা দিলো সার্বিয়া
বসনিয়ার মুসলিমদের ওপর গণহত্যা চালানো বসনিয়ান-সার্ব যুদ্ধাপরাধী জেনারেল রাতকো ম্লাদিক। ছবি: সংগৃহীত

বসনিয়ার মুসলিমদের ওপর গণহত্যা চালানো বসনিয়ান-সার্ব যুদ্ধাপরাধী জেনারেল রাতকো ম্লাদিককে সামরিক মর্যাদা দিয়েছে সার্বিয়া। গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের একটি কারা হাসপাতালে এ যুদ্ধাপরাধী ৮৪ বছর বয়সে মারা যান।

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ১৯৯২-৯৫ সালের যুদ্ধে আট হাজার মুসলিমকে হত্যায় নেতৃত্ব দেন তিনি। গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত রাতকো ম্লাদিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডসের হেগ থেকে তার মরদেহ সার্বিয়াতে এসে পৌঁছায়। এ সময় তার কফিনটি সার্বিয়ার পতাকায় মোড়ানো ছিল। তার মরদেহটি বহন করেন ছয়জন সেনা। এবং সঙ্গে ছিলেন এ যুদ্ধাপরাধীর ছেলে এবং বিচারমন্ত্রী নেনান্দ ভুজিক।

পরে পুলিশের স্কর্টে সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডের একটি সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তার মরদেহ।

দণ্ডপ্রাপ্ত এ যুদ্ধাপরাধীকে রাষ্ট্রীয় সম্মানে বিদায় জানানোর কথা গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুকিক।

কীভাবে তার মৃত্যু হলো সেটি জানতে এই যুদ্ধাপরাধীর মরদেহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এরপর তার পরিবারের কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে এই যুদ্ধাপরাধীকে রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়া নিয়ে সমালোচনা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তারা বলেছে, তার মতো একজন অপরাধীর স্থান ইউরোপে নেই এবং এসব অপরাধেরও কোনো স্থান নেই।

বসনিয়ায় ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের নির্ধারণ করা ‘সেফ এরিয়া’-তে আট হাজার মুসলিমকে হত্যায় নেতৃত্ব দেন এই বসনিয়ার কসাই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের মাটিতে যা ছিল সবচেয়ে বড় নৃসংশ হত্যার ঘটনা। তার নির্দেশে মুসলিম পুরুষ ও বালকদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ভয়াবহ ওই গণহত্যার পর তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় বিশ্ব। এরপর দীর্ঘদিন তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। কিন্তু ২০১১ সালের মে মাসে সার্বিয়ার একটি গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

২০১৭ সালে এ আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ২০২১ সালে তিনি এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। কিন্তু আদালত তা খারিজ করে দেয়।

২০১৭ সালে দেওয়া আদালত তার রায়ে এই জেনারেলের হত্যাকাণ্ডকে ‘মানবজাতির মধ্যে জঘন্যতম অপরাধের অন্যতম অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে।

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

বিষয় : বসনিয়া

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

প্রভাতী টিভি

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


‘বসনিয়ার কসাইকে’ সামরিক মর্যাদা দিলো সার্বিয়া

প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বসনিয়ার মুসলিমদের ওপর গণহত্যা চালানো বসনিয়ান-সার্ব যুদ্ধাপরাধী জেনারেল রাতকো ম্লাদিককে সামরিক মর্যাদা দিয়েছে সার্বিয়া। গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের একটি কারা হাসপাতালে এ যুদ্ধাপরাধী ৮৪ বছর বয়সে মারা যান।

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ১৯৯২-৯৫ সালের যুদ্ধে আট হাজার মুসলিমকে হত্যায় নেতৃত্ব দেন তিনি। গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত রাতকো ম্লাদিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডসের হেগ থেকে তার মরদেহ সার্বিয়াতে এসে পৌঁছায়। এ সময় তার কফিনটি সার্বিয়ার পতাকায় মোড়ানো ছিল। তার মরদেহটি বহন করেন ছয়জন সেনা। এবং সঙ্গে ছিলেন এ যুদ্ধাপরাধীর ছেলে এবং বিচারমন্ত্রী নেনান্দ ভুজিক।

পরে পুলিশের স্কর্টে সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডের একটি সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তার মরদেহ।

দণ্ডপ্রাপ্ত এ যুদ্ধাপরাধীকে রাষ্ট্রীয় সম্মানে বিদায় জানানোর কথা গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুকিক।

কীভাবে তার মৃত্যু হলো সেটি জানতে এই যুদ্ধাপরাধীর মরদেহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এরপর তার পরিবারের কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে এই যুদ্ধাপরাধীকে রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়া নিয়ে সমালোচনা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তারা বলেছে, তার মতো একজন অপরাধীর স্থান ইউরোপে নেই এবং এসব অপরাধেরও কোনো স্থান নেই।

বসনিয়ায় ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের নির্ধারণ করা ‘সেফ এরিয়া’-তে আট হাজার মুসলিমকে হত্যায় নেতৃত্ব দেন এই বসনিয়ার কসাই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের মাটিতে যা ছিল সবচেয়ে বড় নৃসংশ হত্যার ঘটনা। তার নির্দেশে মুসলিম পুরুষ ও বালকদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ভয়াবহ ওই গণহত্যার পর তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় বিশ্ব। এরপর দীর্ঘদিন তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। কিন্তু ২০১১ সালের মে মাসে সার্বিয়ার একটি গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

২০১৭ সালে এ আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ২০২১ সালে তিনি এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। কিন্তু আদালত তা খারিজ করে দেয়।

২০১৭ সালে দেওয়া আদালত তার রায়ে এই জেনারেলের হত্যাকাণ্ডকে ‘মানবজাতির মধ্যে জঘন্যতম অপরাধের অন্যতম অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে।

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট


প্রভাতী টিভি

সম্পাদক ও প্রকাশক: ...
নির্বাহী সম্পাদক : ...
বার্তা সম্পাদক : ..
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত প্রভাতী টিভি
‘বসনিয়ার কসাইকে’ সামরিক মর্যাদা দিলো সার্বিয়া
0:00 0:00
1.0x